লাশ ভেবে থানায় খবর, পুলিশের চেষ্টায় সুস্থ হয়ে পরিবারে ফিরলো জয়নাল

119
জহিরুল ইসলাম জহির : ২১ মে (শনিবার) সকাল সাড়ে ৮টা । মুষলধারে শিলা বৃষ্টি হচ্ছিল। লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চরবাড়িয়া হাসপাতালের পূর্ব দিকে পাকা সড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে চল্লিশোর্ধ একজন পুরুষের লাশ পড়ে আছে। বৃষ্টিতে ভিজছে। পাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি পেরুল উত্তরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলীপ সিংহ কে জানায়। তিনি লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব এর সরকারি মোবাইলে কল করে অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন। থানার ওসির নির্দেশে তাৎক্ষনিক ইমার্জেন্সি পুলিশ অফিসার উপ-পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন একজন পুরুষ লোক রাস্তার পাশে স্যাঁতস্যাঁতে ঝোপে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। মল-মূত্র ত্যাগ করে কাপড়-চোপড় নষ্ট করেছে। বৃষ্টিতে ভিজায় শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। তবে পালস আছে। দারোগা নাজিম থানার ওসিকে অবহিত করে, পাশের বাড়ি থেকে বালতি করে পানি এনে অজ্ঞাত ব্যক্তিটির মল-মূত্র পরিষ্কার করে লাকসাম সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। জরুরী বিভাগের ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আউট অব ডেঞ্জার বলে জানায় । তখন দারোগা নাজিম যারপরনাই খুৃৃশি হয়ে ওসি স্যার কে জানায় রোগী বেঁচে আছে। তখন অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়।
এদিকে লালমাই থানা পুলিশ কুমিল্লার বিভিন্ন থানা এলাকায় খোঁজ নিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
লাকসাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের চেষ্টায় তার জ্ঞান ফিরে এবং ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। তার বোন শাহীনা বেগম ও ভগ্নিপতি আবু সাঈদ পুলিশকে জানান, ব্যক্তিটির নাম মোঃ জয়নাল আবেদীন (৪৫)। তিনি লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চেঙ্গাচল গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে। তিনি অবিবাহিত। গত ইদ উল ফিতরের দিন থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার খোঁজে লাকসামের বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছিল। তবে তারা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেননি।
শনিবার বিকাল ৫ টায় লাকসাম সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে লাকসাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে জয়নাল আবেদীন কে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন লালমাই থানার মানবিক পুলিশ, উপ-পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন।
জয়নালের বোন শাহিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন পর ভাইকে সুস্থভাবে পরিবারে ফিরে লালমাই থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপ-পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়রা যাকে লাশ ভেবে কাছে যায়নি, আমি তার মল-মূত্র পরিষ্কার করে গোসল ও চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছি। এতে আমি খুব শান্তি অনুভব করছি। বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করি বলেই এমন মানবিক কাজটি করার সুযোগ পেয়েছি। লালমাই থানার ওসি স্যার আমাকে এক্ষেত্রে সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, জরুরী মোবাইল টিমে কর্তব্যরত এস.আই নাজিম উদ্দিন তার ফোর্সসহ যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পেশাদারিত্বের সহিত অজ্ঞান ব্যক্তির পরিচর্যা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে অজ্ঞাত ব্যক্তি কে সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরে আমরা সন্তোষ্ট।