লালমাইয়ে ইউনিভার্সেল কামাল ও ভুট্টুর জরুরী সেবা

257

স্টাফ রিপোর্টার
জনগণকে জরুরী সেবা দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারের দপ্তরভিত্তিক হেল্প লাইনও রয়েছে। করোনাকালে দেশের জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে হটলাইন কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্যেও দেশের কোন না কোন অঞ্চল সরকারি জরুরী সেবা থেকে বঞ্চিত। কুমিল্লার ‘লালমাই’ এর একটি উদাহরন। উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের ৩বছরেও এখানে ফায়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাগমারায় ২০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেখানে রোগী ভর্তি করা হয় না। এই অঞ্চলের জনভোগান্তি দূর করতে ব্যক্তি উদ্যোগে জরুরী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ইউনিভার্সেল কামাল ও কাজী কামরুল হাসান ভুট্টু।

ইউনিভার্সেল কামাল
অফিসিয়াল নাম মো: কামাল হোসেন হলেও ইউনিভার্সেল কামাল হিসেবেই সবাই তাকে চিনেন। তিনি লালমাই উপজেলার বাগমারাস্থ মরহুম ডা. আবদুল মবিনের তৃতীয় সন্তান। চিকিৎসক পিতার আদর্শকে লালন করে তিনি প্রায় তিন যুগ ধরে জরুরী সেবায় নিয়মিত কাজ করে আসছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ আন্দোলন, জনসচেতনতা, স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচার, খেলাধুলা ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে তিনি সম্পৃক্ত। ৫৪ বছর বয়সে নিজে রক্ত দিয়েছেন ৫৬ বার। শুধু নিজের শরীর থেকে রক্ত দেয়ার মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি, অন্যের জীবন বাঁচাতে রক্ত সংগ্রহ করতে গড়ে তুলেছেন সামাজিক সংগঠন ‘উদ্দীপন’। নিজের প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনে রক্ত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন লালমাই, লাকসাম, বরুড়া, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রম, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কর্মীরা প্রচারণার কাজ করে থাকেন। ফেসবুকে রয়েছে উদ্দীপনের ৩৫ হাজার ফলোয়ার। তিনি সংগঠনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দশ সহ¯্রাধিক নারী-পুরষকে রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন। রক্তের জরুরি এ সেবা ছাড়াও তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ, আবহাওয়ার র্পূবাভাস নিয়মিত প্রকাশ করেন। অগ্নিকান্ডসহ যে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে তাকেই সবার আগে জানানো হয়। করোনাকালে তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন। ব্যক্তি উদ্যোগে স্থানীয় থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য ও স্বাস্থ্য কর্মীদের একাধিকবার হেক্সিসল ও মাস্ক সরবরাহ করেছেন। তাকে বাগমারা বাজারে দাঁড়িয়ে থেকে পথচারী ও বিভিন্ন পরিবহন চালকদের মাস্ক পরিয়ে দিতে দেখা গেছে। হতদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা করেছেন। করোনা আক্রান্তদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত বা লক্ষন দেখা দেওয়াদের চিকিৎসায় কয়েকজন ডাক্তারের সহায়তায় টেলিমেডিসিন সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করেছেন।

কামরুল হাসান ভুট্টু
বাগমারা বাজারস্থ পল্লী চিকিৎসক মরহুম ডা: মুকবুল আহাম্মদ এর ছেলে কাজী কামরুল হাসান ভুট্টু একজন জরুরী সেবক। বাবার আদর্শ কে লালন করে ছোট কাল থেকেই জনসেবার জন্যই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৩ সালে সর্বপ্রথম বৃহত্তর বাগমারা ইউনিয়নের সাবেক ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান ভুট্টু। এরপর তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন। পরবর্তীতে বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি লালমাই উপজেলা যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়।
২০১১ সালে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এমপির নির্দেশে লালমাই উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজে অংশগ্রহন করেন ভুট্টু। দেশে তখন বিদ্যুৎ মিটারের সংকট থাকলেও মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে লালমাইবাসীর জন্য বিপুল সংখ্যক মিটার সরবরাহ করা হয়েছিল। আর সেই মিটার পেতে যেন কারও ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুট্টু তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যান। মন্ত্রীর পক্ষে জনগণকে বিদ্যুৎ সংযোগ বা মিটার উপহার দিতে গিয়ে নিজেই জনতার ভুট্টুর স্বীকৃতি পেয়ে যান। বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া মহল্লার মানুষ কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে সরাসরি ভুট্টুকেই ফোন করে সহায়তা চান। তিনিও সরাসরি অথবা দলীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা সমাধান করে দেন।
এখনো লালমাই উপজেলার কোথায়ও বিদ্যুৎ চলে গেলে ডিজিএম কে কল না দিয়ে ভুট্টুকেই সকলে কল করে জানতে চায় কি সমস্যা? কখন বিদ্যুৎ আসবে? ভুট্টুও বিদ্যুৎ অফিসের সাথে কথা বলে দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাগমারা বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাজার কমিটি বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোন উদ্যোগ না নিলেও ভুট্টুকে একাধিকবার নিজে কোদাল দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। এই পর্যন্ত বাগমারা বাজারে যতবার অগ্নিকান্ড ঘটেছে প্রাথমিকভাবে ভুট্টুকেই ফায়ার সার্ভিসের ভুমিকায় দেখা গেছে।