লাকসামে সরকারী ঔষধ পাচারের অভিযোগ

308

জাফর আহমেদ  ।।   লাকসামে এক নার্সের বিরুদ্ধে সরকারী ঔষধ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই নার্সের নাম শ্যামল বড়ুয়া। সে লাকসাম সরকারী হাসপাতালের নার্সের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত ষ্টোর কিপারের দায়িত্বও পালন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার লাকসাম সরকারী হাসপাতালে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মুঠো ফোনে কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল আলী হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেননা।

স্থানীয় ও হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমান ঔষধ অজ্ঞাতনামা দুই ব্যাক্তি আলাদা আলাদা বস্তা ভর্তি করা হচ্ছিল। ঘটনাটি শুনে ওই কক্ষের সামনে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদিক ও হাসপাতালে আসা দর্শনার্থীরা উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় হাসপাতালের নার্স কাম ভারপ্রাপ্ত ষ্টোর কিপার শ্যামল বড়ুয়া ঘটনাস্থলে এসে জানান, ঔষধ গুলো দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই সেগুলো বস্তা ভর্তি করে বাহিরের লোক দিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে।


উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি তাৎক্ষনিক মুঠো ফোনে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়তুজ্জামানকে জানালে ঘটনাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল আলী কে জানাতে বলেন। কিন্তু ওই সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল আলী হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানালে সিভিল সার্জনকে পুনরায় অবহিত করলে তিনি ঔষধের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, প্রতিদিন লাকসাম সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা বিনা মূল্যে বিতরনের সরকারী ঔষধ না পেয়ে ফিরে যায়। অথচ আজ দেখলাম (বুধবার) লাকসাম সরকারী বরাদ্দের লাখ লাখ টাকার ঔষধ বিতরন না করে গোডাউনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। তিনি এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, এ ঔষধ গুলো কি কর্তৃপক্ষ পাচারের জন্য রেখেছেন? নাকি নষ্ট করার জন্য রেখেছন?

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবদুল আলীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে (০১৭৪০-….৩৯) সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভি করেননি।