ভুলইন দক্ষিণে চালের ডিলার পরিবর্তন চান ইউপি চেয়ারম্যান

40
‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী’র ডিলার মাসুদ রানা মানিক

স্টাফ রিপোর্টার: লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী’র (হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের) ডিলার মাসুদ রানা মানিক কে পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগ দিতে চান ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। বর্তমান ডিলারের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে নতুন ডিলার নিয়োগ দিতে গত ৩ আগস্ট তিনি লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। চেয়ারম্যানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বর্তমান ডিলারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে ইউএনও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেন।
আবেদনে ইউপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, ১০ টাকা কেজি দরের চালের ডিলার মাসুদ রানা মানিকের বিরুদ্ধে কার্ডধারী উপকারভোগী ও ওয়ার্ড মেম্বারদের নিকট থেকে বিভিন্ন মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমার জানামতে তাঁহার নিজস্ব কোন গুদাম নেই। তিনি সবসময় উপকারভোগীর কার্ড নিজের হেফাজতে রাখেন, পরিমানে কম প্রদান করেন এবং সর্বশেষ চাল বিতরণে ইউপি মেম্বার মনির হোসেনের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। পরবর্তীতে গত ০৬/০৭/২০২২ইং ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থিত সকলেই চালের ডিলার পরিবর্তন করার জন্য মতামত পেশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে চাল ডিলার মাসুদ রানা মানিক বলেন, আমি ৫বছর ধরে সুনামের সাথে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করে আসছি। সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হকের সময়ে মৌখিকভাবে আমার পার্টনার ছিল ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হারুনুর রশিদ। বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর কথামত হারুনুর রশিদ কে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের ভগ্নিপতি আবুল বাশার ও ভাগিনা শাহাদাত কে মৌখিকভাবে পার্টনার করি। চেয়ারম্যান ও নতুন পার্টনারদের অনুরোধে আমার গুদামে (আমার ভাড়াকৃত নিজস্ব গুদাম রয়েছে) চাল না রেখে তাদের দোকানে চাল রেখে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। বিতরণ কালে আমি মাস্টাররোলে উপকারভোগীর স্বাক্ষর গ্রহন করি। আর ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করেন চেয়ারম্যানের ভাগিনা শাহাদাত। মেম্বার মনির হোসেনের সাথে আমার হাতাহাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। সবকিছু ঠিকমতই চলছিল। দু’মাস আগে হঠাৎ করে একদিন চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে অফিসে যেতে বলে। গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান ছাড়াও আবুল বাশার, ভাগিনা শাহাদাতসহ আরো ২/৩জন ব্যক্তি অফিসে বসে আছেন। অফিসে যাওয়ার পরপরই চেয়ারম্যান কম্পিউটারে কম্পোজ করা একটি দরখাস্ত দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি দরখাস্ত পড়ে দেখি সেখানে লেখা রয়েছে, শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক অসুবিধার কারনে আমার পক্ষে খাদ্য বান্ধব ডিলারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বরাবর লেখা সেই দরখাস্তের নিচে আমার নাম ঠিকানা লেখা রয়েছে। আমি স্বাক্ষর দিতে অনিহা প্রকাশ করি এবং দরখাস্তের কপিটা পকেটে নিয়ে নিই। তখন চেয়ারম্যান বলেন, আপনি ডিলারের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। আমার ভগ্নিপতি আবুল বাশার ডিলার হবে। তবে আপনি পার্টনার থাকবেন। আমি আবারও অনিহা প্রকাশ করে চেয়ারম্যান অফিস থেকে বের হয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের অবহিত করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা জানান, চেয়ারম্যান নিজের ভগ্নিপতিকে ডিলার নিয়োগ দিতে বর্তমান ডিলার কে বাদ দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছেন।
চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি সরজমিনে তদন্ত করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান ও ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য গ্রহন করেছি। শীঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নিকট জমা দিব।