পূর্ব বিরোধের জেরে পিতা-পুত্রকে হত্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ

248

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি  ।।  কুমিল্লার সদর দক্ষিণে পূর্ব বিরোধের জের ধরে মতিন গং কর্তৃক পিতা ও পুত্রকে হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের শাহ আলমের স্ত্রী সুরমা বেগম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহ আলমের ছেলে শাহজালালের শ্বাশুড়ি মোরশেদা বেগম, স্ত্রী রুজিনা বেগম ও বোন পারভিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

লিখিত বক্তব্যে সুরমা বেগম উল্লেখ করেন, জয়নগর গ্রামের সামছু মিয়ার পুত্র মতিন মিয়া গং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা-পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছে। শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা মতিন মিয়া গংয়ের খারাপ কাজের বিরোধীতা করে আসছিল। ৫ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী মথুরাপুর গ্রামের ট্রাক্টর চালক আলমগীর হোসেনের বাড়ির সামনে বাকতিন্ডার জের ধরে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মতিন মিয়া গং কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই পূর্ব বিরোধের জের ধরে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে থাকা লোকজনকে মারধর করে আহত করে। হামলাকারীরা ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে অন্তত ৮ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। কিন্তু পরদিন বুধবার মতিন মিয়া গং স্বার্থ হাসিলের জন্য মথুরাপুর গ্রামের ট্রাক্টর চালক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় শাহ আলম, তাঁর ছেলে শাহজালাল ও জয়নালকে আসামী করেছে। এছাড়া প্রতিদিনই মতিন মিয়া গং শাহ আলমের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। কোন আত্মীয় স্বজন বাড়িতে যেতে চাইলে তাদেরকেও বাধা দিচ্ছে। এক কথায়-মতিন মিয়া গং শাহ আলমের পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মতিন মিয়া গংয়ের হুমকির ভয়ে কেউ স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারছি না।

সুরমা বেগম সাংবাদিকদের নিকট অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এলাকায় অনুসন্ধান করে হত্যাকান্ডের ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করলে আমার পরিবার উপকৃত হবে। সেই সাথে একটি ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া সাংবাদিকদের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রেখে সঠিক তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রকৃত অপরাধী যেই হোক, তার বিচারও দাবি করেছেন সুরমা বেগম।