পূবালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ৬লক্ষ টাকা আত্মসাৎ; আটক-২

31

স্টাফ রিপোর্টার ।। গ্রাহকের সেভিংস একাউন্ট থেকে ৬লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড শাখার নাইটগার্ড এরশাদুল হক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাপস কুমার দাসকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত অনুমান ৯টায় ২জনকে ব্যাংক থেকে আটক করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী গ্রাহক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্যাংকের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৬লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা (নং ৪৫, তাং ২৩/০২/২০২১ইং) দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ট্রাক চালক নজরুল ইসলাম পূবালী ব্যাংক, পদুয়ার বাজার শাখার একজন সেভিংস একাউন্ট হোল্ডার। তার একাউন্টে (নং ৩৩৫৬১০১১০৮৩৮০) নিজের জমানো ও প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো মোট ৬লক্ষ ৪৪ হাজার ৩শত ৬৭ টাকা ছিল। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল অনুমান ৪টায় গ্রাহক নজরুলের মোবাইলে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬লক্ষ টাকা উত্তোলনের একটি এসএমএস যায়। ওই সময় তিনি জেলার অন্য একটি উপজেলায় অবস্থান করায় দ্রুত ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরবর্তী তিনদিন (শুক্র, শনি ও রবিবার) ব্যাংক বন্ধ থাকায় তিনি সোমবার ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তার একাউন্ট থেকে ৬লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।


এঘটনায় গ্রাহক নজরুল ইসলাম কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মঙ্গলবার সকালে সাধারণ ডায়েরী (নং ১২১৮) করেন এবং রাতে ব্যাংকের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের নাইটগার্ড এরশাদুল হক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাপস কুমার দাসকে গ্রেফতার করে।
এদিকে গ্রাহকের অজ্ঞাতসারে টাকা উত্তোলনের ভিডিও ফুটেজ ধ্বংস করতে দুষ্কৃতিকারীরা ব্যাংকের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ব্যাংকের পূর্বপাশের একটি ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে ফেলেছে। এঘটনায় ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার জাহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
ব্যাংকে কর্মরত একজন কর্মচারী জানান, ঘটনার দিন বিকাল অনুমান ৪টায় একজন লোক মাথা, হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় ব্যাংকের ছোপায় বসেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাপসের কাছে একটি চেক দেন। তাপস চেকটি ক্যাশিয়ারের কাছে জমা দেন। ব্যাংকে রক্ষিত গ্রাহকের স্বাক্ষরের সাথে চেকের স্বাক্ষরে মিল না থাকায় ক্যাশিয়ার চেকের পিছনে আরো ২টি স্বাক্ষর দিতে বলেন। ওই ব্যক্তি আরো ২টি স্বাক্ষর করলে ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ কুমার দাস ও সেকেন্ড অফিসার জাহিদুল ইসলাম চেকটি অনুমোদন করেন। এরপর ৬লক্ষ টাকা (৫শ টাকার ১০টি ও ১শ টাকার ১০টি বান্ডেল) ব্যাগ ভর্তি করে তাপস ব্যান্ডেজ লাগানো ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। ধারনা করা হচ্ছে, ব্যাংকের ক্যাশিয়ার বিশ্বজিৎ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাপস ও একজন অজ্ঞাতনামা বহিরাগত টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক খাদেমুল বাহার বলেন, পূবালী ব্যাংকের ২জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডের আবেদন করেছি। আবেদন মঞ্জুর হলে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী শংকা প্রকাশ করে বলেন, পূবালী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের অজ্ঞাতসারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় আমরা আতংকিত। আমাদের ব্যবসায়িক (চলতি) হিসাব থেকেও এভাবে দুষ্কৃতিকারীরা টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে পারে।
পূবালী ব্যাংক লিঃ এর কুমিল্লার ডিজিএম লতিফুর রহমান বলেন, টাকা উত্তোলনের ঘটনায় গ্রাহকের মামলায় ২জন কর্মচারীকে গ্রেফতারে আমরাই সহায়তা করেছি। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও জোনাল অফিস থেকে অডিট চলছে।