কাজী কাশেমের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মামলা

539

রিয়াজ উদ্দিন ।।   জাল দলিল সৃষ্টি করে প্রতারনার অভিযোগে লালমাই উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও বরুড়ার চালিতাতলী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাগমারা সিঁধুচী নিবাসী আলহাজ্ব মাওলানা কাজী আবুল কাশেম মো: ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার ১নং আমলি আদালতে মামলা (সিআর-২৮৭/২০২০) দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মো: সেলিম। তার বাড়ী বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের সিঁধুচি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে পিবিআই, কুমিল্লা কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককের সাথে কথা বলে জানা যায়, লামাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের সিঁধুচী মৌজার সাবেক দাগ ৪৬০ ও হাল দাগ ৮১৪ এর এর ১১ শতক জমি সিএস (নং ৫৯) খতিয়ান, আরএস ( নং ৬৯) খতিয়ান, হাত নকশা (ডিপি-১৮৫) ও বিএস ( নং ২৭৭) খতিয়ান অনুযায়ী মরহুম মহব্বত আলীর ওয়ারিশ হিসেবে বাদী সেলিম মালিক ও দখলদার রয়েছে। অথচ সিঁধুচি গ্রামের আবুল কাশেম মো: ফজলুল হক ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবর জমিটি তার নামে নামজারি করতে (নং ২৯১৯/১৯-২০) আবেদন করেন। আবেদনের সাথে তিনি নিজ নামীয় একটি দলিল ও একটি ভায়া দলিলের সার্টিফাইড কপি সংযুক্ত করেন। নোটিশ পেয়ে বাদী ভুমি অফিসে যোগাযোগ করে এবং তার দাখিলকৃত ২টি দলিলের কপিসহ সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে। এরপর উল্লেখিত ২টি দলিলের হুবহু নকল লাকসাম সাবরেজিষ্ট্রি অফিস থেকে সংগ্রহ করে।

বাদীর সংগ্রহকৃত ৭৩৫৯ নং ছাপকবলা দলিলে (২০০৪ সালের ২২ এপ্রিল রেজিষ্ট্রিকৃত) দাতা-দীনেশ চন্দ্র সিংহ, গ্রহীতা-কাজী আবুল কাশেম মো: ফজলুল হক, সাবেক ৬৯নং খতিয়ান, ডিপি ১৮৫ নং খতিয়ান ও বিএস ২৬৪নং খতিয়ানের সাবেক ৪৬০ দাগ ও হাল ৮১৪ দাগের ১১শতক সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও মনিন্দ্র চন্দ্র সিংহ’র মালিকানাধীন ২৬৪ নং খতিয়ানে ৮১৪ দাগের জমি নেই, রয়েছে ৮১৩, ১০২০ ও ১০২২ দাগের জমি।

কাজী কাশেমের দাখিলকৃত ৭৩৫৯ নং ছাপকবলা দলিলে, দাতা-দীনেশ চন্দ্র সিংহ, গ্রহীতা-কাজী আবুল কাশেম মো: ফজলুল হক, সাবেক ৬৯নং খতিয়ান, ডিপি ২৭৭ নং খতিয়ানের সাবেক ৪৬০ দাগ ও হাল ৮১৪ দাগের ১১শতক সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও বিএস ২৭৭ নং খতিয়ানের সকল জমির মালিক মরহুম মহব্বত আলী গং।

কাজী কাশেম জালিয়াতি করে ৭৩৫৯ নং দলিলের সার্টিফাইড কপিতে মনিন্দ্র চন্দ্র সিংহ’র মালিকানাধীন বিএস ২৬৪ নং খতিয়ানের পরিবর্তে মরহুম মহব্বত আলীর মালিকানাধীন বিএস ২৭৭নং খতিয়ানের তথ্য উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া বাদীর সংগ্রহকৃত ১৭৬৯৩ নং দলিলে (১৯৯৯ সালের ১৯ অক্টোবর রেজিষ্ট্রিকৃত) দাতা-মনিন্দ্র চন্দ্র সিংহ, গ্রহীতা-দীনেশ চন্দ্র সিংহ, বিএস ২৬৪ নং খতিয়ানের ১০২২ দাগের ১১ শতক জমি হস্তান্তরের কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ কাজী কাশেমের দাখিলকৃত ১৭৬৯৩ নং ছাপকবলা দলিলে দাতা-মহব্বত আলী, গ্রহীতা-দীনেশ চন্দ্র সিংহ, বিএস ২৭৭নং খতিয়ানের ৮১৪ দাগের ১১ শতক জমি হস্তান্তরের কথা উল্লেখ রয়েছে। মূলত কাজী কাশেম জালিয়াতি করে উক্ত দলিলের সার্টিফাইড কপিতে দাতার নাম মনিন্দ্র চন্দ্র সিংহ এর পরিবর্তে মহব্বত আলী এবং ২৬৪নং খতিয়ানের পরিবর্তে ২৭৭ নং খতিয়ানের জমির তথ্য উল্লেখ করেছেন।

গত ১৫ জানুয়ারি নামজারির আপত্তি জানিয়ে বাদী সদর দক্ষিণ উপজেলার এসিল্যান্ড বরাবর একটি লিখিত আবেদন করে। আবেদনের সাথে তার দাদা মরহুম মহব্বত আলীর নামীয় সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ান এবং কাশেমের দাখিলকৃত দলিলের সার্টিফাইড কপির হুবহু নকল সরবরাহ করে। এসব দেখে এসিল্যান্ড কাজী কাশেমের দাখিলকৃত দলিলগুলো কোয়ারি (স্বারক নং ২৫৮, তাং১/৩/২০২০ইং) করতে লাকসাম সাবরেজিষ্ট্রারের নিকট প্রেরণ করেন। সাবরেজিষ্ট্রার কোয়ারি শেষে দলিল ২টিতে তথ্যগতভুল তথা জালিয়াতি রয়েছে মর্মে রিপোর্ট (স্বারক নং ৯৪, তাং ৯/৩/২০২০ইং) দেন। সেই অনুযায়ী এসিল্যান্ড অফিসে একাধিকবার শুনানী হলেও কাজী কাশেম অজ্ঞাত কারনে অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট এসিল্যান্ড অফিসে উভয় পক্ষ হাজির হয়। কাজী কাশেম অপরাধ স্বীকার করেন। তবে তাকে এ কাজে অন্য একজন সহযোগিতা করেছেন বলে এসিল্যান্ড কে তিনি জানান। পরে এসিল্যান্ড নামজারি আবেদনটি খারিজ করে জাল দলিল সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করে একটি আদেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কে আদালতে মামলার করার পরার্মশ দেন। সেই অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক এসিল্যান্ডের আদেশের কপি উপস্থাপন করে গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই, কুমিল্লার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, যে জমিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা সেই জমিটি পরিদর্শন করেছি। স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহন কার্যক্রম চলছে।