আর্সেনিকমুক্ত পানি; ৬শতক জমি দান করলেন হাজী ফরহাদ

অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এমপির নির্দেশে 

13

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা এমপির নির্দেশে লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাজীপুরে সরকারিভাবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানি (আর্সেনিকমুক্ত পানি) সরবরাহ করতে ‘রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম’ নামীয় একটি প্রকল্প গ্রহন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
আর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাজীপুর গ্রামে ৬শতক (অনুমান মূল্য ১২ লক্ষ টাকা) জমি ক্রয় করে সরকারকে দান করেছেন ওই গ্রামের কৃতি সন্তান, সৌদি আরবস্থ ব্যবসায়ী হাজী ফরহাদ হোসাইন।
৩১ জুলাই (রোববার) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাজীপুর ঈদগাহ মাঠে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে গ্রামবাসীর সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অতিথিদের বক্তব্যে এসব তথ্য জানা গেছে।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ফোরকান এলাহি অনুপমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রীর এপিএস কেএম সিংহ রতন, লালমাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রওনাক জাহান, লালমাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম হৃদয়, বাকই উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আইউব আলী, বাকই উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুল হাকিম ফাউন্ডেশন’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সৌদি প্রবাসী হাজী ফরহাদ হোসাইন, ওয়ার্ড মেম্বার দেলোয়ার হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মজুমদার, বাকই উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল ওহাব সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ সিংহ রায়, লালমাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল বড়–য়া প্রমুখ।
অতিথিবৃন্দ ও গ্রামবাসীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে প্রবাসী ফরহাদ হোসেন ৬ শতক জমি দানের ঘোষনা দেওয়ায় অর্থমন্ত্রীর পক্ষে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
উল্লেখ্য বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের ৮৫ শতাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার মানুষের খাওয়ার পানির চাহিদা মিটাতে রয়েছে প্রায় আড়াইশ অগভীর নলকূপ। গত ১৭ জুন, ১৮ জুন ও ২১ জুন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নিয়োজিত টেস্টার রাসেল, তানভীর, সজিব ও ফাতেমা ওই গ্রামের ১শ ৯২টি নলকূপের পানি আর্সেনিক পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় দেখা যায়, ১শ ৬৪টি নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ৫০ পিপিবি হলেও হাজীপুর গ্রামের ১৭টি নলকূপের পানিতে ১০০০ পিপিবি, ৫২টি নলকূপের পানিতে ৫০০ পিপিবি, ৪২টি নলকূপের পানিতে ৩০০ পিপিবি, ১৮টি নলকূপের পানিতে ২০০ পিপিবি ও ৩৫টি নলকূপের পানিতে ১০০ পিপিবি মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাপ্তাহিক লালমাই বার্তাসহ একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘আর্সেনিকের গ্রাম হাজীপুর’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।